কক্সবাজার—শুধু বাংলাদেশের নয়, গোটা বিশ্বের গর্ব। পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতের নাম শুনলেই ভেসে ওঠে ঢেউয়ের গর্জন আর সূর্যাস্তের লালিমা। কিন্তু ২০২৫ সাল থেকে এই কক্সবাজারে শুরু হতে যাচ্ছে একেবারেই নতুন অধ্যায়—কক্সবাজার এসকেপ ২০২৫: দ্য লংগেস্ট বিচ অ্যাডভেঞ্চার।
এবার আর শুধু রোদ, বালি আর ঢেউ নয়। পর্যটকদের জন্য যুক্ত হচ্ছে রোমাঞ্চকর আয়োজন, অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস, ক্যাম্পিং, পরিবেশবান্ধব আবাসন আর বিশ্বমানের অভিজ্ঞতা।
ইতিহাস থেকে আধুনিকতায়
আরাকান রাজাদের সময় থেকেই এই উপকূলীয় অঞ্চল ভ্রমণকারীদের টানত। পরে ব্রিটিশ আমলে কক্সবাজারের নাম পৌঁছে যায় আন্তর্জাতিক ভ্রমণ মানচিত্রে। সময়ের সাথে সাথে সৈকতটি হয়ে ওঠে বাংলাদেশের পর্যটনের প্রধান চালিকাশক্তি। এবার সেই কক্সবাজারে যোগ হচ্ছে এক নতুন যুগের সূচনা—যেখানে থাকবে অ্যাডভেঞ্চার আর বিনোদনের চমৎকার সমন্বয়।
কী কী থাকছে নতুন?
২০২৫ সালের আয়োজনের তালিকায় একের পর এক চমক—
👉 বিচ ওয়াক চ্যালেঞ্জ — প্রথমবারের মতো ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ হাঁটার আয়োজন, যেখানে যোগ দেবেন দেশি-বিদেশি ভ্রমণকারী।
👉 সার্ফিং ও কাইট-সার্ফিং — ঢেউয়ের সাথে লড়াই আর আকাশে রঙিন কাইটের মিশ্র অভিজ্ঞতা।
👉 বিচ ক্যাম্পিং ভিলেজ — সাগরের ধারে তাঁবুতে রাত কাটানো, সঙ্গে বোনফায়ার আর লাইভ মিউজিক।
👉 ইকো-ফ্রেন্ডলি গ্ল্যাম্পিং — পরিবেশবান্ধব আবাসন, যেখানে থাকবে সৌরবিদ্যুৎ আর পুনর্ব্যবহারযোগ্য ব্যবস্থা।
👉 রাতের সৈকত উৎসব — স্থানীয় খাবার, লোকসংগীত আর লাইভ মিউজিকের জমজমাট আয়োজন।
ঢাকা থেকে আসা এক ভ্রমণকারী আরিফুল ইসলাম জানালেন—
“আমি বহুবার কক্সবাজার গেছি, কিন্তু এবারের আয়োজন একেবারেই অন্যরকম। বিচ ওয়াক চ্যালেঞ্জ আর সার্ফিংয়ের কথাই আমাকে টেনে এনেছে।”

বিদেশিদের নজরেও কক্সবাজার
শুধু দেশি নয়, এবার বিদেশি পর্যটকেরাও কক্সবাজারকে নতুনভাবে আবিষ্কার করতে আগ্রহী। জাপান, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়ার ভ্রমণ এজেন্সিগুলো ইতিমধ্যেই কক্সবাজারকে তাদের অ্যাডভেঞ্চার ট্যুর প্যাকেজে যুক্ত করেছে।
জার্মান পর্যটক মারিয়া বলেন—
“আমি শ্রীলঙ্কায় সার্ফিং করেছি, কিন্তু কক্সবাজারের ঢেউ অনেক বড় আর প্রশস্ত। সার্ফিংয়ের জন্য একেবারেই আদর্শ।”
রঙিন সৌন্দর্যের মেলবন্ধন
কক্সবাজারের প্রতিটি মুহূর্তেই আলাদা সৌন্দর্য—
🌅 সকালে সোনালি সূর্যোদয়
🌊 দুপুরে নীলাভ ঢেউ
🌇 সন্ধ্যায় লালচে আলোয় রূপবদল
এর সঙ্গে ইনানি বিচের পাথুরে দৃশ্য, হিমছড়ির পাহাড়ি ঝরনা আর মহেশখালীর সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য মিলিয়ে তৈরি হচ্ছে বিচ অ্যাডভেঞ্চার এসকেপ রুট।
স্থানীয় অর্থনীতির নতুন সম্ভাবনা
বিশেষজ্ঞদের মতে, কক্সবাজার এসকেপ ২০২৫ শুধু পর্যটন শিল্প নয়, স্থানীয় অর্থনীতিতেও আনবে বড় পরিবর্তন—
✔ নতুন রিসোর্ট ও রেস্টুরেন্ট
✔ হাজারো নতুন কর্মসংস্থান
✔ সীফুড ও হস্তশিল্পের বাজার সম্প্রসারণ
✔ বিদেশি বিনিয়োগকারীর আগ্রহ

স্থানীয় দোকানদার হাসান আলী আশাবাদী কণ্ঠে বলেন—
“যদি পর্যটক দ্বিগুণ হয়, আমাদের ব্যবসাও বাড়বে দ্বিগুণ। শুধু কক্সবাজার নয়, পুরো অঞ্চলই বদলে যাবে।”
কলকাতা থেকে উমরাহ – আমার জীবনের সেরা অভিজ্ঞতা, সবচেয়ে কম খরচে
নিরাপত্তায় নতুন প্রযুক্তি
২০২৫ সালের নীতিমালায় নিরাপত্তাকে দেওয়া হয়েছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব—
🔹 সৈকতে লাইফগার্ড ও ড্রোন মনিটরিং
🔹 ট্যুরিস্ট পুলিশের হেল্পডেস্ক
🔹 জরুরি চিকিৎসা সেবা
বাংলাদেশ পুলিশের পর্যটন শাখা জানিয়েছে—
“পর্যটকের নিরাপত্তা আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার।”
টেকসই ভ্রমণের মডেল
কক্সবাজার এসকেপ ২০২৫ কেবল বিনোদনের আয়োজন নয়, বরং টেকসই পর্যটনের এক দৃষ্টান্ত। প্লাস্টিকমুক্ত সৈকত, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার, স্থানীয় সংস্কৃতির প্রতি সম্মান—সবকিছু মিলিয়ে এটি হয়ে উঠছে বাংলাদেশের সাসটেইনেবল ট্যুরিজমের মাইলফলক।
ভ্রমণকারীদের জন্য টিপস (২০২৫)
✅ ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত সার্ফিং ও বিচ ওয়াকের সেরা সময়।
✅ হোটেল বা গ্ল্যাম্পিং স্পট আগে থেকেই অনলাইনে বুক করুন।
✅ সাগরে নামতে হলে নির্ধারিত জোন বেছে নিন।
✅ সাশ্রয়ী ভ্রমণের জন্য শেয়ারড রাইড ব্যবহার করুন।
৬ দিনে তিন পাহাড়ি স্বর্গ: দার্জিলিং, গ্যাংটক ও পেল্লিং ভ্রমণের ডায়েরি
ভবিষ্যতের দিগন্ত
পর্যটন বিশেষজ্ঞরা বলছেন—যদি পরিকল্পনা ঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয়, তাহলে আগামী দশকে কক্সবাজার মালদ্বীপ বা বালির বিকল্প হিসেবে দাঁড়াতে পারবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. নাজমুল হক বলেন—
“কক্সবাজার এখন শুধু বাংলাদেশের নয়, বিশ্বের গর্ব।”

আমার অভিজ্ঞতা
আমি যাদের সাথে ভ্রমণে বের হয়েছিলাম, তারা সবাই একমত—ভবিষ্যতে কক্সবাজার মালদ্বীপ বা বালির মতো জনপ্রিয় গন্তব্য হয়ে উঠতে পারে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. নাজমুল হকও একই কথা বলেছেন—“কক্সবাজার এখন শুধু বাংলাদেশের নয়, বিশ্বের গর্ব।”
শেষ রাতে আমি সৈকতে দাঁড়িয়ে ছিলাম। চারদিকে হালকা বাতাস, দূরে ঢেউয়ের শব্দ, আর আকাশজুড়ে তারা। মনে হচ্ছিল, ২০২৫ সালের কক্সবাজার যেন নতুনভাবে জন্ম নিয়েছে। শুধু দীর্ঘতম সৈকত নয়, এখন এটি দীর্ঘতম অ্যাডভেঞ্চারের এক গন্তব্য। ভ্রমণ শেষ হলেও আমার মনে হলো, এই সৈকতের গল্প এখনও শেষ হয়নি, বরং শুরু হলো এক নতুন অধ্যায়।
উপসংহার
২০২৫ সাল যেন কক্সবাজারের নতুন সূর্যোদয়। সমুদ্রসৈকতের গৌরব এবার যুক্ত হচ্ছে অ্যাডভেঞ্চারের আবেশে। বিশ্বের দীর্ঘতম সৈকত ধীরে ধীরে হয়ে উঠছে দীর্ঘতম অ্যাডভেঞ্চারের গন্তব্য।
তথ্যসূত্র
beautiful bangladesh
Hey, I’m Arafat Hossain! With 7 years of experience, I’m all about reviewing the coolest gadgets, from cutting-edge AI tech to the latest mobiles and laptops. My passion for new technology shines through in my detailed, honest reviews on opaui.com, helping you choose the best gear out there