প্রতিদিন কলমি শাক খেলে যা হয় শরীরে—চিকিৎসকরাও আজ অবাক!

By Dr.Sorifa

Updated On:

Follow Us
কলমি শাক এর পুষ্টি গুণ_ ভিটামিন ও খনিজের ভাণ্ডার

কলমি শাক (Water Spinach বা Kangkong, বৈজ্ঞানিক নাম: Ipomoea aquatica) আমাদের বাংলার ঘরে ঘরে পরিচিত, সস্তা, সহজলভ্য ও পুষ্টিতে ভরপুর একটি শাক। এর কচি ডগা ও পাতা শুক্তো, ভাজি, তরকারি থেকে শুরু করে নানান পদে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু এই সাধারণ দেখতে শাকটি যে কত গুণে ভরা, তা অনেকেই জানেন না। আসুন, জেনে নিই কলমি শাকের বিস্তারিত পুষ্টিগুণ, স্বাস্থ্য উপকারিতা, কিছু সতর্কতা এবং আপনার মনে আসা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর বৈজ্ঞানিক ভিত্তিসহ উত্তর।

কলমি শাক এর পুষ্টি গুণ_ ভিটামিন ও খনিজের ভাণ্ডার

সবার প্রিয় কলমি

বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ এবং এশিয়ার বহু দেশে কলমি শাক অত্যন্ত জনপ্রিয়। এর সহজ চাষাবাদ, দ্রুত বৃদ্ধি এবং স্বাদ ও পুষ্টিগুণের কারণে এটি সারা বছরই পাওয়া যায়। পুকুরপাড়, ডোবা, নালা বা বাজারে সহজেই এই শাক পাওয়া যায় । কিন্তু এর গুণাগুণ জানলে আপনি প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কলমি শাক রাখতে উৎসাহিত হবেন।

কলমি শাকের পুষ্টি গুণ: ভিটামিন ও খনিজের ভাণ্ডার

১০০ গ্রাম কাঁচা কলমি শাকে থাকে অনেক দরকারি উপাদান:

  • ভিটামিন A (বিটা-ক্যারোটিন) – চোখ ভালো রাখে, ত্বক সুন্দর রাখে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
  • ভিটামিন C – ঠান্ডা-কাশি প্রতিরোধ করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, আয়রন শোষণে সাহায্য করে।
  • ভিটামিন B9 (ফোলেট) – রক্ত তৈরি করে, গর্ভবতী মায়েদের জন্য উপকারী।
  • আয়রন (লৌহ) – রক্তে হিমোগ্লোবিন বাড়ায়, শরীরে অক্সিজেন পরিবহন করে।
  • ক্যালসিয়াম – হাড় ও দাঁত মজবুত করে।
  • পটাশিয়াম – রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে, পেশী ও স্নায়ু ঠিকভাবে কাজ করতে সাহায্য করে।
  • ম্যাগনেসিয়াম – হাড়, পেশী এবং শক্তি উৎপাদনে সহায়তা করে।
  • আঁশ (ফাইবার) – হজমে সাহায্য করে, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।

অতিরিক্ত উপাদান:

  • লুটেইন ও জিয়াজ্যানথিন – চোখের রক্ষা করে।
  • ক্লোরোফিল – রক্ত পরিষ্কার রাখে।

কলমি শাক খাওয়ার অসাধারণ স্বাস্থ্য উপকারিতা

উপরের পুষ্টি উপাদানগুলির কারণেই কলমি শাক নানাভাবে আমাদের স্বাস্থ্যের উপকার করে:

১. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
→ ভিটামিন A ও C শরীরকে ঠান্ডা-কাশি থেকে রক্ষা করে।

২. চোখ ভালো রাখে
→ ভিটামিন A ও লুটেইন চোখের রেটিনা রক্ষা করে।

৩. রক্তশূন্যতা রোধ করে
→ আয়রন ও ফোলেট রক্ত তৈরি করতে সাহায্য করে।

৪. হজম ভালো করে
→ আঁশ অন্ত্রের চলাচল বাড়ায়, পেট পরিষ্কার রাখে।

৫. হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়
→ পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে, আঁশ কোলেস্টেরল কমায়।

৬. শরীরের ক্ষতিকর অণু রোধ করে
→ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরকে সুরক্ষা দেয়।

৭. ত্বক ভালো রাখে
→ ভিটামিন C ও A ত্বক টানটান রাখে, ব্রণ কমায়।

৮. ওজন কমাতে সাহায্য করে
→ ক্যালরি কম, আঁশ বেশি – ফলে ক্ষুধা কম লাগে।

৯. হাড় মজবুত করে
→ ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম হাড় ভালো রাখে।

কলমি শাক এর পুষ্টি গুণ_ ভিটামিন ও খনিজের ভাণ্ডার

করোসল (Soursop/Graviola): ক্যান্সারের চিকিৎসায় কি সত্যিই উপকারী? বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ .

আপনার গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর উত্তর :

  1. গর্ভাবস্থায় কি কলমি শাক খাওয়া যাবে?
    উত্তর:হ্যাঁ, পরিমিত পরিমাণে এবং সঠিকভাবে প্রস্তুত করে খাওয়া যেতে পারে।

গর্ভবতী মায়েদের জন্য উপকারিতা:

  • ফোলেট (ভিটামিন বি৯): গর্ভের শিশুর মস্তিষ্ক ও স্নায়ুর সঠিক বিকাশে সাহায্য করে। জন্মগত ত্রুটি (যেমন স্পাইনা বিফিডা) প্রতিরোধে খুবই দরকারি।
  • আয়রন: গর্ভাবস্থায় রক্তের পরিমাণ বেড়ে যায়, তাই আয়রন দরকার হয় বেশি। কলমি শাকে আছে ভালো পরিমাণ আয়রন।
  • ক্যালসিয়াম: শিশুর হাড় ও দাঁতের গঠনে এবং মায়ের হাড় ঠিক রাখতে ক্যালসিয়াম প্রয়োজন।
  • ফাইবার: কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে, যা গর্ভাবস্থায় সাধারণ সমস্যা।

কিছু সতর্কতা:

  • খুব বেশি খাওয়া যাবে না।
  • ভালোভাবে ধুয়ে ও সিদ্ধ করে খেতে হবে। কারণ এতে থাকতে পারে ব্যাকটেরিয়া বা পরজীবী, যা গর্ভের শিশুর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
  • কাঁচা বা অর্ধসিদ্ধ খাওয়া একেবারেই না।
  • জটিলতা থাকলে আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

কলমি শাক খেলে কি রক্ত হয়?


উত্তর: কলমি শাক খেলে সরাসরি “রক্ত বাড়ে” বা “রক্ত তৈরি হয়” – এমন সরলীকরণ সঠিক নয়। তবে, কলমি শাক রক্তশূন্যতা প্রতিরোধে এবং রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা উন্নত করতে সাহায্য করে।

কীভাবে সাহায্য করে:

  • আয়রন: হিমোগ্লোবিন তৈরির জন্য দরকারি।
  • ফোলেট: নতুন রক্তকণিকা তৈরিতে সহায়তা করে।

নিয়মিত খেলে শরীরে রক্তশূন্যতা কমে।

কলমি শাক খেলে কি রক্তচাপ কমে?

উত্তর: হ্যাঁ, কলমি শাকে থাকা পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

কীভাবে?

  • পটাশিয়াম রক্তনালীর দেয়ালকে আরাম দেয়।
  • শরীরে লবণের (সোডিয়াম) ক্ষতিকর প্রভাব কমায়।

গুরুত্ব: এটা ওষুধের বিকল্প নয়, ওষুধ চালিয়ে যেতে হবে।

কলমি শাক খাওয়ার উপকারিতা (সংক্ষেপে)

  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
  • চোখ ভালো রাখে
  • রক্তশূন্যতা রোধ করে
  • হজম ভালো করে
  • হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়
  • অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সরবরাহ করে
  • ত্বক ভালো রাখে
  • হাড় মজবুত করে
  • ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে

কলমি শাকের ক্ষতিকর দিক কি?

উত্তর: কলমি শাক সাধারণত নিরাপদ। তবে কিছু পরিস্থিতিতে বা অতিরিক্ত খেলে নিম্নলিখিত ক্ষতিকর দিক বা সতর্কতা জানা জরুরি

বেশি খেলে বা কিছু বিশেষ অবস্থায়:

  • পেটে গ্যাস বা ডায়রিয়া হতে পারে – আঁশ বেশি থাকায়
  • কিডনি রোগীদের জন্য বিপজ্জনক – পটাশিয়াম বেশি থাকায়
  • দূষণ থাকতে পারে – মাটি বা পানির দূষণ, তাই ভালোভাবে ধুয়ে রান্না করতে হবে
  • ওষুধের সাথে সমস্যা হতে পারে – বিশেষ করে রক্ত পাতলা করার ওষুধ খেলে
  • অ্যালার্জি হতে পারে – কারও কারও ক্ষেত্রে বিরলভাবে হতে পারে

কিডনি রোগীরা কি কলমি শাক খেতে পারবে?

  • উত্তর:এটি নির্ভর করে কিডনি রোগের তীব্রতার উপর। তবে সাধারণত কিডনি রোগীদের, বিশেষ করে যাদের কিডনি রোগ অ্যাডভান্সড পর্যায়ে (Stage 3b, 4, 5) বা যারা ডায়ালাইসিস নিচ্ছেন, তাদের কলমি শাক সীমিত খাওয়া উচিত বা এড়িয়ে চলাই উত্তম।
  • কারণ: কলমি শাকে উচ্চ মাত্রার পটাশিয়াম থাকে। সুস্থ কিডনি শরীর থেকে অতিরিক্ত পটাশিয়াম বের করে দেয়। কিন্তু কিডনি রোগের কারণে কিডনি যখন ঠিকমত কাজ করে না, তখন রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা বেড়ে যায় (হাইপারক্যালেমিয়া)। এটি একটি জরুরি অবস্থা যা হৃদস্পন্দন অনিয়মিত করে দিতে পারে এবং হঠাৎ হার্ট অ্যাটাকের কারণও হতে পারে।
  • কাদের জন্য কতটুকু:
    • প্রাথমিক কিডনি রোগ (Stage 1-3a): ডাক্তার বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী সীমিত ও নিয়ন্ত্রিত পরিমাণে মাঝে মধ্যে খাওয়া যেতে পারে।
    • মাঝারি থেকে তীব্র কিডনি রোগ (Stage 3b, 4, 5) এবং ডায়ালাইসিস রোগী: খাওয়া উচিত নয় বা অত্যন্ত অল্প পরিমাণে (ডাক্তার/পুষ্টিবিদের কঠোর নির্দেশনা মেনে)। এদের জন্য সাধারণত পটাশিয়ামযুক্ত খাবার কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। কলমি শাক পটাশিয়ামে উচ্চ হওয়ায় এটি এড়ানোই ভালো।
  • পরামর্শ: কোনো কিডনি রোগীর কলমি শাক খাওয়ার আগে অবশ্যই নিজের চিকিৎসক এবং একজন রেনাল নিউট্রিশনিস্ট (কিডনি রোগের পুষ্টিবিদ)-এর পরামর্শ নিতে হবে। তারা রোগের অবস্থা এবং রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট দেখে বলে দেবেন আপনি কলমি শাক খেতে পারবেন কিনা এবং পারলে কতটুকু পরিমাণে খেতে পারবেন।
কলমি শাক এর পুষ্টি গুণ_ ভিটামিন ও খনিজের ভাণ্ডার

পুল্লা বা ধুন্দল এর উপকারিতা: শরীর, ত্বক ও রোগ প্রতিরোধে ১০টি বৈজ্ঞানিক প্রমাণিত গুণ

কিভাবে কলমি শাক খাবেন এবং সংরক্ষণ করবেন?

  • রান্নার টিপস:
    • ভালো করে ধুয়ে নিন: কলমি শাকের গোড়া কেটে ফেলুন। প্রতিটি ডগা ও পাতা আলাদা করে নিন। পরিষ্কার প্রবাহমান পানিতে কয়েকবার খুব ভালো করে ধুয়ে নিন, বিশেষ করে পাতার ভাঁজ ও গোড়ার অংশে ময়লা/কাদা লেগে থাকতে পারে।
    • রান্না করুন: কলমি শাক সাধারণত ভাপে সিদ্ধ করে, স্টার-ফ্রাই (কড়া করে ভেজে), ডালে বা শুক্তোতে, বা অন্য তরকারির সাথে মিশিয়ে রান্না করা হয়। ভালোভাবে সিদ্ধ করে/রান্না করে খাওয়াই নিরাপদ।
    • অতিরিক্ত সেদ্ধ করা এড়িয়ে চলুন: অতিরিক্ত সেদ্ধ করলে পুষ্টিগুণ কিছুটা কমে যায়। হালকা সিদ্ধ বা স্টার-ফ্রাই করে খাওয়া ভালো।
  • সংরক্ষণ:
    • কলমি শাক খুব তাজা অবস্থায় খাওয়া ভালো।
    • সংরক্ষণ করতে চাইলে: শাক ভালো করে ধুয়ে, পানি ঝড়িয়ে, ভেজা কাগজের টাওয়েল বা নরম কাপড়ে মুড়ে প্লাস্টিকের ব্যাগে বা এয়ারটাইট কনটেইনারে রেফ্রিজারেটরের ক্রিস্পার ড্রয়ারে রাখুন।
    • এভাবে সাধারণত ২-৩ দিন ভালো থাকে।

উপসংহার: সহজ কিন্তু দারুন পুষ্টিকর – কলমি শাক

কলমি শাক প্রকৃতির এক অসাধারণ উপহার।
এই সস্তা, সহজলভ্য শাকটিতে আছে চোখ, রক্ত, হজম, ত্বক ও রোগ প্রতিরোধে সাহায্যকারী অনেক দরকারি পুষ্টি — যেমন ভিটামিন A, C, ফোলেট, আয়রন, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, আঁশ (ফাইবার) ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।

নিয়মিত খেলে কী উপকার?

  • দৃষ্টিশক্তি ভালো থাকে
  • রক্তশূন্যতা দূর হয়
  • হজম ভালো হয়
  • হৃদরোগের ঝুঁকি কমে
  • শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে
  • ত্বক উজ্জ্বল ও সুস্থ থাকে

সতর্কতার কথাও মনে রাখুন:

  • কলমি শাক ভালোভাবে ধুয়ে, পরিষ্কার করে ও সিদ্ধ করে খেতে হবে।
  • গর্ভবতী নারীরা পরিমাণ বুঝে খাবেন।
  • কিডনি রোগীদের, বিশেষ করে যাদের অবস্থা গুরুতর বা যারা ডায়ালাইসিসে আছেন, তাদের জন্য এই শাক বিপজ্জনক হতে পারে
  • ওয়ারফারিন (Warfarin) জাতীয় রক্ত পাতলা করার ওষুধ খেলে সাবধানে খেতে হবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ:
যদি আপনার কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা থাকে — যেমন কিডনি সমস্যা, গর্ভাবস্থার জটিলতা বা আপনি ওষুধ খাচ্ছেন — তাহলে কলমি শাক খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

সুস্থ থাকতে খাদ্যতালিকায় সঠিক পুষ্টি রাখুন, আর সেই তালিকায় কলমি শাক হতে পারে এক দারুণ সংযোজন!

তথ্যসূত্র:

  1. Harvard T.H. Chan School of Public Health – The Nutrition Source – Vitamins
  2. American Optometric Association – Lutein & Zeaxanthin
  3. World Health Organization (WHO) – Anaemia
  4. Mayo Clinic – Dietary fiber: Essential for a healthy diet
  5. American Heart Association – How Potassium Can Help Control High Blood Pressure
  6. FoodSafety.gov – People at Risk: Pregnant Women
  7. World Health Organization (WHO) – Daily iron supplementation during pregnancy
  8. Centers for Disease Control and Prevention (CDC) – Folic Acid
  9. National Institutes of Health (NIH) – Iron, Folate
  10. National Institutes of Health (NIH) – Warfarin diet: What foods should I avoid?
  11. USDA FoodData Central – Kangkong, raw

আমি ডাক্তার (MBBS, Cal) হিসেবে সাধারণ চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকি। জ্বর, সর্দি-কাশি, পেটের সমস্যা, অ্যালার্জি, মাথাব্যথা, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ম্যানেজমেন্ট ও রুটিন চেকআপের মতো সব ধরনের প্রাথমিক স্বাস্থ্য সমস্যার চিকিৎসা করি। আমার লক্ষ্য হলো ধৈর্য্য ও স্পষ্টভাবে আপনার সমস্যা বোঝা এবং সহজ ভাষায় সঠিক চিকিৎসা দেওয়া। শিশু থেকে বয়স্ক—সবাইকে সেবা দেই।

You Might Also Like