ওটিটি দুনিয়া মানেই আজ রহস্য আর সাসপেন্সে ভরপুর গল্প। দর্শকরা প্রতিদিন খোঁজেন নতুন অভিজ্ঞতা—যে গল্প তাদের এক মুহূর্তের জন্যও টানটান উত্তেজনা থেকে মুক্তি দেবে না। ঠিক এই জায়গাতেই আসছে নেটফ্লিক্সের বহুল আলোচিত সিনেমা ‘ইন্সপেক্টর জেন্ডে’ (Inspector Zende)।
ট্রেলার মুক্তির পর থেকেই ছবিটি বলিউড মহল থেকে দর্শক মহল—সবার আলোচনার কেন্দ্রে। কারণও আছে। বলিউডের শক্তিশালী অভিনেতা মনোজ বাজপেয়ী এখানে হাজির হচ্ছেন কিংবদন্তি পুলিশ অফিসার মধুকার জেন্ডের চরিত্রে। আর তার বিপরীতে রয়েছেন প্রতিভাবান অভিনেতা জিম সর্ভ, যিনি অভিনয় করছেন চার্লস শোভরাজ থেকে অনুপ্রাণিত এক ভয়ঙ্কর অপরাধীর চরিত্রে।
সিনেমাটি মুক্তি পাবে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ, নেটফ্লিক্সে বিশ্বব্যাপী।
বাস্তব কাহিনি থেকে জন্ম এক থ্রিলার
‘ইন্সপেক্টর জেন্ডে’ (Inspector Zende)-র সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর প্রেক্ষাপট। গল্পের কেন্দ্রে সত্তর ও আশির দশকের মুম্বাই—যেখানে অপরাধ, গ্ল্যামার, রাজনীতি আর পুলিশের অবিরাম লড়াই চলছিল সমান্তরালে।
এই সময়েই আন্তর্জাতিক অপরাধ জগতে আলোচনায় আসেন চার্লস শোভরাজ। তিনি “দ্য সার্পেন্ট” বা “বিকিনি কিলার” নামে কুখ্যাত হন। বিদেশি পর্যটকদের সঙ্গে বন্ধুত্বের ভান করে মাদক খাওয়ানো, তারপর হত্যা করে তাদের অর্থ লুট করা—এই ছিল তার নিত্যনৈমিত্তিক কৌশল।
মুম্বাই পুলিশের এক সাহসী অফিসার মধুকার জেন্ডে ছিলেন সেই অন্ধকার অধ্যায়ের নায়ক। ১৯৭১ সালে তিনি প্রথমবার শোভরাজকে গ্রেপ্তার করেন। কিন্তু নাটকীয়ভাবে পালিয়ে যায় অপরাধী। পরবর্তী বছরগুলোতে ‘ধরা আর পালানো’-র এক লম্বা খেলা চলতে থাকে। অবশেষে ১৯৮৬ সালে গোয়ার এক রেস্তোরাঁ থেকে হাতেনাতে পাকড়াও করেন জেন্ডে। ভারতীয় পুলিশ ইতিহাসে এই ঘটনা আজও স্মরণীয়।
এই কিংবদন্তি দ্বন্দ্বই সিনেমাটির মূল কাহিনি।
‘দ্য বেঙ্গল ফাইল’ নিয়ে ঝড়: সৌরভ দাসের চরিত্র, গোপাল পাঁঠার বর্ণনা ও রাজনৈতিক বিতর্কে তোলপাড়
ট্রেলারের আভাসে উত্তেজনা
ট্রেলারে দেখা যাচ্ছে, সিনেমার কাহিনি শুরু হয় ১৯৮৬ সালের এক পালানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে। কাল্পনিক চরিত্র কার্ল ভোজরাজ (শোভরাজ থেকে অনুপ্রাণিত) যখন তিহার জেল থেকে পালায়, তখনই শুরু হয় ইন্সপেক্টর জেন্ডের relentless অভিযান।
ট্রেলারের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত হলো মনোজ বাজপেয়ীর সংলাপ—
“সাপ যতই বিষাক্ত হোক, বেজি সবসময় সাপকে হারায়।”
এই সংলাপ ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল। দর্শকরা বলছেন, এটি শুধু সিনেমার উত্তেজনা বাড়ায়নি, বরং শোভরাজ বনাম জেন্ডের দ্বন্দ্বকেও নিখুঁতভাবে তুলে ধরেছে।
পুরনো মুম্বাইয়ের ব্যস্ত রাস্তা, গোয়ার সৈকত, পুলিশি জেরা আর ধাওয়া—সব মিলিয়ে ট্রেলারে রোমাঞ্চ, সাসপেন্স ও নস্টালজিয়ার এক অনন্য মিশেল ধরা পড়েছে।
চরিত্র ও অভিনয়
🔹 মনোজ বাজপেয়ী – ইন্সপেক্টর জেন্ডে (Inspector Zende)
বলিউডের অন্যতম শক্তিশালী অভিনেতা মনোজ বাজপেয়ী এবার নতুন রূপে হাজির। বাস্তবের জেন্ডের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে চরিত্রের গভীরতা বুঝেছেন তিনি। তার ভাষায়,
“জেন্ডে কখনও খ্যাতির জন্য লড়েননি। তিনি ছিলেন নিঃশব্দ যোদ্ধা, যিনি দায়িত্ববোধ থেকেই সব করেছেন।”

🔹 জিম সর্ভ – কার্ল ভোজরাজ
ভিলেন চরিত্রে জিম সর্ভ। ঠান্ডা, ভয়ঙ্কর অথচ ক্যারিশমাটিক অপরাধীর ভূমিকায় তিনি আবারও প্রমাণ করবেন নিজের অভিনয়শৈলী। Rocket Boys, Made in Heaven, Padmaavat-এর মতো প্রোজেক্টে আগেই দাপট দেখিয়েছেন। এবার তার চ্যালেঞ্জ—দর্শকের মনে ভয় গেঁথে দেওয়া।
🔹 সহ-অভিনেতারা
শচীন খেড়েকর, গিরিজা ওক, বালচন্দ্র কদম প্রমুখ থাকছেন সহ-অভিনেতা হিসেবে। তারা সিনেমায় যোগ করছেন হাস্যরস, আবেগ আর বাস্তবতার ছোঁয়া। ফলে গল্পটি কেবল থ্রিলার নয়, মানবিক দিকও তুলে ধরবে।
নির্মাণশৈলী ও পরিচালনা
এই ছবির পরিচালক চিন্ময় ডি. মান্ডলেকার—প্রথমবার হিন্দি সিনেমায় কাজ করছেন তিনি। তার মতে,
“জেন্ডের গল্প সিনেমার জন্য একেবারে নিখুঁত। এখানে আছে এক পুলিশ অফিসারের সাহস, এক অপরাধীর ভয়ঙ্কর কৌশল আর মুম্বাই শহরের স্মরণীয় অধ্যায়।”
প্রযোজনায় আছেন জয় শেওয়াক্রামানি ও ওম রাউত। আর নেটফ্লিক্সের মাধ্যমে সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ায় এটি শুধু ভারত নয়, বৈশ্বিক দর্শকের কাছেও পৌঁছাবে।
দর্শকের প্রতিক্রিয়া
ট্রেলার মুক্তির পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই লিখছেন—“এটা শুধু এক অপরাধীর গল্প নয়, বরং এক পুলিশ অফিসারের সংগ্রামের ইতিহাস।”
সিনেমা বিশেষজ্ঞদের মতে, নেটফ্লিক্সের ভারতীয় কন্টেন্টে এটি বড় সংযোজন হতে যাচ্ছে। টানটান সাসপেন্স, ড্রামা, আবেগ, নস্টালজিয়া—সবকিছুর এক মিশেল ‘ইন্সপেক্টর জেন্ডে’ (Inspector Zende)।
কেন এত আগ্রহ?
১. বাস্তব কাহিনি থেকে অনুপ্রাণিত – দর্শকরা বাস্তবতার ছোঁয়া পছন্দ করেন, এখানে আছে সেই সত্য ও উত্তেজনা।
২. মনোজ বাজপেয়ী বনাম জিম সর্ভ – দুই শক্তিশালী অভিনেতার দ্বন্দ্ব সিনেমাকে অন্য মাত্রা দেবে।
৩. সত্তর-আশির দশকের আবহ – পুরনো মুম্বাই ও গোয়ার পটভূমি নস্টালজিয়ার আবেশ তৈরি করবে।
৪. থ্রিলার + মানবিক আবেগ – শুধু ধাওয়া নয়, এক পুলিশ অফিসারের মানবিক লড়াইও গল্পের কেন্দ্রে।
শেষকথা
সব মিলিয়ে, ‘ইন্সপেক্টর জেন্ডে’ (Inspector Zende) কেবল একটি থ্রিলার নয়, বরং ভারতীয় পুলিশের এক বাস্তব কিংবদন্তিকে শ্রদ্ধা জানানোর প্রচেষ্টা। এখানে আছে অপরাধ জগতের অন্ধকার, পুলিশের বুদ্ধি ও সাহসের লড়াই, আর আছে সেই অবিস্মরণীয় মুহূর্ত—এক সাপকে হারিয়ে দেওয়া এক বেজির কাহিনি।
এখন অপেক্ষা শুধু ৫ সেপ্টেম্বরের, যখন নেটফ্লিক্সে এই Inspector Zende “বেজি বনাম সাপ”-এর লড়াই চোখে দেখবেন দর্শকরা।
Hey, I’m Arafat Hossain! With 7 years of experience, I’m all about reviewing the coolest gadgets, from cutting-edge AI tech to the latest mobiles and laptops. My passion for new technology shines through in my detailed, honest reviews on opaui.com, helping you choose the best gear out there