সোশ্যাল মিডিয়ায় হঠাৎ আলোড়ন
গত কয়েকদিন ধরে ভারতের অনলাইন দুনিয়া সরগরম এক প্রশ্নে—“টিকটক কি আবার ফিরছে?”
কারণ, অনেক ব্যবহারকারী জানালেন হঠাৎ করেই তারা TikTok-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট খুলতে পারছেন। মুহূর্তের মধ্যেই টুইটার (এক্স) ও ইনস্টাগ্রামে ছড়িয়ে পড়ে #TikTokBack হ্যাশট্যাগ।
কিন্তু প্রকৃত সত্যি কী?
সরকার ও কোম্পানির পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে—টিকটক এখনও ভারতে নিষিদ্ধ, এবং এর কোনো আনুষ্ঠানিক রিলঞ্চ হয়নি।
একজন শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে বলেন—
“ওয়েবসাইট খোলার পেছনে টেকনিক্যাল কোনো গ্লিচ থাকতে পারে। সরকার টিকটক বা অন্য কোনো নিষিদ্ধ চীনা অ্যাপের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তোলেনি।”
২০২০ সালের ঝড়: এক সিদ্ধান্তে বদলে যায় ডিজিটাল বাজার
২০২০ সালের ২৯ জুন ভারত সরকার জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে টিকটকসহ ৫৯টি চীনা অ্যাপ নিষিদ্ধ করে।
কারণ ছিল স্পষ্ট—এই অ্যাপগুলো ভারতীয় ব্যবহারকারীর তথ্য চীনে পাচার করছে বলে আশঙ্কা ছিল। সীমান্তে চীন-ভারত উত্তেজনার সময় এই সিদ্ধান্তকে ‘ডিজিটাল সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ হিসেবে দেখা হয়।
পরবর্তীতে তদন্ত শেষে ২০২১ সালের জানুয়ারিতে নিষেধাজ্ঞা স্থায়ী করা হয়। অর্থাৎ, আইনগতভাবে এখনো টিকটকের ফিরে আসার কোনো দরজা খোলা হয়নি।
টিকটক: শুধুই অ্যাপ নয়, এক সাংস্কৃতিক বিপ্লব
টিকটক বন্ধ হওয়ার আগে ভারতে এর জনপ্রিয়তা ছিল বিস্ময়কর।
- সক্রিয় ব্যবহারকারী: ১৫০–২০০ মিলিয়ন
- মোট ডাউনলোড: ৬০০ মিলিয়নের বেশি
গ্রামাঞ্চলের সাধারণ তরুণ থেকে শহরের নামী ক্রিয়েটর—সবাই নিজের প্রতিভা তুলে ধরার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বেছে নিয়েছিল টিকটককে।
লোকসংগীত, মিম, ছোট নাটক, রান্না, এমনকি রাজনৈতিক বিতর্ক—সবকিছুর জন্যই ছিল জায়গা।
কিন্তু হঠাৎ অ্যাপ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাজারো ক্রিয়েটর একেবারে রাস্তায় নেমে যায়। অনেকেই ইউটিউব বা ইনস্টাগ্রামে নতুন করে শুরু করলেও আগের মতো পৌঁছানো আর আয় করতে পারেননি।
এক প্রাক্তন টিকটক ক্রিয়েটর বলছিলেন—
“আমি টিকটকের মাধ্যমে মাসে ৫০–৬০ হাজার টাকা উপার্জন করতাম। এখন অন্য প্ল্যাটফর্মে একই কাজ করি, কিন্তু সেই এনগেজমেন্ট নেই।”
শূন্যস্থান কে পূরণ করল?
টিকটকের জায়গা খালি হতেই নতুন প্রতিযোগিতা শুরু হয়।
- ইউটিউব শর্টস দ্রুত ব্যবহারকারীদের দখলে নেয়। ইউটিউবের আগের শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম তাদের বড় সুবিধা দেয়।
- ইনস্টাগ্রাম রিলস তরুণদের মধ্যে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
- দেশীয় অ্যাপ যেমন মোজ, চিঙ্গারি, জোশ প্রথমে আলোচনায় এলেও দীর্ঘমেয়াদে ব্যবহারকারী ধরে রাখতে পারেনি।
২০২৫ সালের চিত্র একেবারে স্পষ্ট—ভারতের শর্ট-ভিডিও বাজারে ইউটিউব শর্টস ও ইনস্টাগ্রাম রিলস শীর্ষে।
ByteDance-এর লড়াই: ফিরে আসার পথ খোঁজা
নিষিদ্ধ হওয়ার পরও টিকটকের মালিক কোম্পানি ByteDance ভারতের বাজার ছাড়তে চাননি।
- ২০২০–২০২১: রিলায়েন্স জিওর সঙ্গে অংশীদারিত্ব নিয়ে আলোচনা হয়। সফটব্যাঙ্ক পর্যন্ত মধ্যস্থতা করে।
- ২০২২: হিরানানদানি গ্রুপের Yotta Data Center-এ ভারতীয় ডেটা সংরক্ষণের প্রস্তাব ওঠে।
- ২০২৩–২০২৪: দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও মার্কিন বাজারে মনোযোগ দেয় কোম্পানি।
- ২০২৫: ওয়েবসাইট খোলা নিয়ে আবারও গুজব ছড়ায়। কিন্তু ByteDance স্পষ্ট জানিয়ে দেয়—“আমরা ভারতে ফেরিনি।”
ফিরতে হলে কী কী শর্ত মানতে হবে?
ভারতে টিকটক পুনরায় চালু করতে হলে কড়া শর্তের মুখে পড়তে হবে:
- সরকারি অনুমোদন: তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রককে আনুষ্ঠানিকভাবে নিষেধাজ্ঞা তুলতে হবে।
- ডেটা লোকালাইজেশন: ভারতীয় ব্যবহারকারীর তথ্য দেশের ভেতরে রাখতে হবে।
- ভারতীয় অংশীদারিত্ব: সম্ভবত কোনো দেশীয় কোম্পানির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে আসতে হবে।
- আইটি রুলস মেনে চলা: অবৈধ কনটেন্ট টেকডাউন, ট্রেসেবিলিটি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অ্যাক্সেস নিশ্চিত করতে হবে।
একজন সাইবার নীতি বিশেষজ্ঞ বলেন—
“টিকটক যদি ভারতে ফেরে, তবে তাদেরকে ভারতীয় সার্বভৌমত্বের শর্তগুলো পুরোপুরি মানতে হবে। নাহলে অনুমতি পাওয়া অসম্ভব।”
সামনে সম্ভাবনা: তিনটি চিত্র
বিশ্লেষকরা তিনটি সম্ভাবনার কথা বলছেন—
- বর্তমান অবস্থা বজায়: নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে, গুজব চলতেই থাকবে।
- শর্তসাপেক্ষ প্রত্যাবর্তন: ভারতীয় অংশীদারিত্ব ও ডেটা লোকালাইজেশন মেনে সীমিতভাবে ফিরতে পারে।
- অন্য পথে ফেরা: টিকটক হয়তো প্রযুক্তি বা লাইসেন্স কোনো দেশীয় অ্যাপকে দিতে পারে।
গুজব চেনার উপায়
পাঠকের জন্য কিছু পরিষ্কার নির্দেশনা:
- সরকারি বিজ্ঞপ্তি ছাড়া কোনো নিষিদ্ধ অ্যাপের ফেরার খবর সত্যি নয়।
- গুগল প্লে বা অ্যাপ স্টোরে অফিসিয়াল রিলিজ হলে তবে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
- ভারতীয় কোম্পানির সঙ্গে অংশীদারিত্বের ঘোষণা ছাড়া টিকটক ফিরছে না।
উপসংহার
টিকটকের নাম আজও ভারতের কোটি তরুণের মনে নস্টালজিয়ার মতো বাজে।
তাই হঠাৎ ওয়েবসাইট চালু হলে গুজব ছড়ানো অস্বাভাবিক নয়।
কিন্তু বাস্তবতা হলো—টিকটক এখনও ভারতে নিষিদ্ধ, এবং সরকারের অবস্থান বদলায়নি।
আজকের শর্ট-ভিডিও বাজারে ইউটিউব শর্টস আর ইনস্টাগ্রাম রিলস দৌড়াচ্ছে এগিয়ে।
অতএব, “টিকটক ফিরছে”—এটা এখনো কেবল সোশ্যাল মিডিয়ার গুজব, বাস্তব নয়।
Baaghi 4 টিজারে রক্ত, প্রতিশোধ আর টাইগার শ্রফের ভয়ংকর রূপ, সঞ্জয় দত্তের খলনায়ক চমক
Hey, I’m Arafat Hossain! With 7 years of experience, I’m all about reviewing the coolest gadgets, from cutting-edge AI tech to the latest mobiles and laptops. My passion for new technology shines through in my detailed, honest reviews on opaui.com, helping you choose the best gear out there