সৌন্দর্যচর্চা বলতে আমরা সাধারণত কেমিকেল প্রোডাক্ট বুঝি। কিন্তু প্রকৃতির মধ্যেই লুকিয়ে আছে চমৎকার সব উপাদান—যেগুলো ব্যবহার করে ত্বক ও চুলকে রাখা যায় সতেজ, উজ্জ্বল এবং প্রাণবন্ত। তেমনই একটি উপাদান হলো মসুর ডাল। শুধু খাওয়ার জন্য নয়, এটি রূপচর্চাতেও অবিশ্বাস্যভাবে কার্যকর। মসুর ডালে রয়েছে প্রোটিন, ফাইবার, আয়রন, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও মিনারেল, যা ত্বক ও চুলের গভীরে কাজ করে।
এই আর্টিকেলে আমরা জানব, কীভাবে মসুর ডালকে বিভিন্নভাবে সৌন্দর্যচর্চার জন্য ব্যবহার করা যায়—সরাসরি ঘরোয়া উপায়ে।
ফেস স্ক্রাব হিসেবে মসুর ডাল
মসুর ডালকে শুকিয়ে পাউডার করে নিলে তা প্রাকৃতিক স্ক্রাব হিসেবে দারুণ কাজ করে। এতে থাকা দানাদার টেক্সচার ত্বকের মৃতকোষ (dead cells) দূর করে, মুখ পরিষ্কার করে তোলে এবং ব্ল্যাকহেডস বা হোয়াইটহেডস হ্রাস করে।
ব্যবহারবিধি:
- ২ চা চামচ মসুর ডাল পাউডার,
- ১ চা চামচ দই বা গোলাপ জল মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন,
- আলতোভাবে ঘষে মুখে লাগান, ২-৩ মিনিট পরে ধুয়ে ফেলুন।
উপকারিতা:
ত্বক নরম ও মসৃণ হয়, ব্রণ ও তেলের সমস্যা কমে।
ফেসপ্যাক হিসেবে উজ্জ্বল ত্বকের জন্য
মসুর ডাল ত্বকের রং উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে। এটি ত্বকে গ্লো আনে এবং রোদে পোড়া দাগ হালকা করে।
ব্যবহারবিধি:
- ১ টেবিল চামচ মসুর ডাল পেস্ট,
- ১ চা চামচ কাঁচা দুধ বা মধু মিশিয়ে মুখে লাগান,
- ১৫-২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।
উপকারিতা:
ত্বক উজ্জ্বল ও পরিষ্কার হয়, স্কিন টোন সমান হয়।

ব্রণের দাগ দূর করতে
মসুর ডালে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ব্রণের দাগ হালকা করে এবং ব্রণের ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে।
ব্যবহারবিধি:
- ১ চা চামচ মসুর ডাল পেস্ট,
- আধা চা চামচ লেবুর রস মিশিয়ে দাগের জায়গায় লাগান,
- ১০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।
উপকারিতা:
ব্রণ, দাগ ও ইনফ্ল্যামেশন কমে যায়।
ত্বকের তেলাক্ততা নিয়ন্ত্রণে
তৈলাক্ত ত্বক মানেই ব্রণ, চিটচিটে ভাব আর অস্বস্তি। মসুর ডাল ত্বকের অতিরিক্ত তেল শুষে নিয়ে স্কিনকে মেট করে তোলে।
ব্যবহারবিধি:
- ২ চা চামচ মসুর ডাল গুঁড়া,
- ১ চা চামচ মুলতানি মাটি ও গোলাপ জল মিশিয়ে লাগান।
উপকারিতা:
ত্বক থাকে ফ্রেশ ও তৈলমুক্ত।
চুলের প্রাকৃতিক কন্ডিশনার হিসেবে
মসুর ডাল চুলের গভীরে প্রবেশ করে পুষ্টি জোগায় ও চুল নরম করে।
ব্যবহারবিধি:
- ৩ টেবিল চামচ মসুর ডাল সেদ্ধ করে পেস্ট বানান,
- এতে ১ চা চামচ নারকেল তেল মিশিয়ে লাগান চুলে,
- ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।
উপকারিতা:
চুল থাকে মসৃণ ও কোমল।
ডার্ক সার্কেল দূর করতে
চোখের নিচের কালো দাগ দূর করতেও মসুর ডাল কার্যকর।
ব্যবহারবিধি:
- ১ চা চামচ মসুর ডাল পেস্ট ও ২ ফোঁটা বাদাম তেল মিশিয়ে
- চোখের নিচে লাগিয়ে ১০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।
উপকারিতা:
ডার্ক সার্কেল কমে এবং চোখের চারপাশ উজ্জ্বল হয়।

ট্যান দূর করতে
রোদে পোড়া ত্বকের ট্যান দূর করতে মসুর ডাল দারুণ কাজ করে।
ব্যবহারবিধি:
- ১ চা চামচ মসুর ডাল পেস্ট,
- আধা চা চামচ টক দই মিশিয়ে মুখে লাগান।
উপকারিতা:
ট্যান কমে, ত্বক ফিরে পায় আগের উজ্জ্বলতা।
মসুর ডাল: উপকারিতা, অপকারিতা ও কীভাবে সৌন্দর্যচর্চায় ব্যবহার করবেন I
ফেসিয়াল হেয়ার দূর করতে
মসুর ডালের পেস্ট কিছুটা ঘর্ষণ সৃষ্টি করে যা অবাঞ্ছিত লোম অপসারণে সাহায্য করে।
ব্যবহারবিধি:
- ২ চা চামচ মসুর ডাল,
- অল্প দুধ মিশিয়ে পেস্ট করে নাক ও ঠোঁটের পাশে আলতো ঘষুন।
উপকারিতা:
উইমেন ফেসিয়াল হেয়ার হালকা হয়।
লিপ স্ক্রাব হিসেবে
ঠোঁটের মৃত চামড়া উঠাতে ও ঠোঁট নরম রাখতে ব্যবহার করুন মসুর ডাল।
ব্যবহারবিধি:
- অল্প মসুর ডাল পাউডার ও মধু মিশিয়ে ঠোঁটে আলতো ঘষুন।
উপকারিতা:
ঠোঁট হয় গোলাপি ও কোমল।
সেলুলাইট হ্রাসে ব্যবহার
মসুর ডালের স্ক্রাব রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়, যা সেলুলাইট কমাতে সহায়তা করে।
ব্যবহারবিধি:
- মসুর ডাল ও অলিভ অয়েল মিশিয়ে ৫-৭ মিনিট ম্যাসাজ করুন।
উপকারিতা:
স্কিন টাইট হয় ও সেলুলাইট হ্রাস পায়।
হ্যান্ড ও ফুট প্যাক
হাত ও পায়ের খসখসে ভাব দূর করে মসুর ডাল।
ব্যবহারবিধি:
- ২ চা চামচ মসুর ডাল + ১ চা চামচ দই মিশিয়ে লাগান।
উপকারিতা:
নরম ও কোমল হাত-পা ফিরে পান।
উপসংহার
মসুর ডাল শুধু রান্নাঘরের উপকরণ নয়, এটি ঘরোয়া রূপচর্চার বিশ্বস্ত সঙ্গী। আপনি যদি কেমিকেল ছাড়া প্রাকৃতিক উপায়ে সৌন্দর্যচর্চা করতে চান, তবে মসুর ডাল হতে পারে সেরা সমাধান। এটি ত্বক ও চুল উভয়ের জন্যই উপকারী।
এই ভিডিও তা দেখতে পারেন : মুসুর ডাল দিয়ে মাত্র ৩ দিনে স্থায়ীভাবে ফর্সা হওয়ার সহজ উপায়

আমি ডাক্তার (MBBS, Cal) হিসেবে সাধারণ চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকি। জ্বর, সর্দি-কাশি, পেটের সমস্যা, অ্যালার্জি, মাথাব্যথা, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ম্যানেজমেন্ট ও রুটিন চেকআপের মতো সব ধরনের প্রাথমিক স্বাস্থ্য সমস্যার চিকিৎসা করি।
আমার লক্ষ্য হলো ধৈর্য্য ও স্পষ্টভাবে আপনার সমস্যা বোঝা এবং সহজ ভাষায় সঠিক চিকিৎসা দেওয়া। শিশু থেকে বয়স্ক—সবাইকে সেবা দেই।