রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন চলতি আগস্টের শেষ সপ্তাহে ভারত সফরে আসছেন—এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে আলোড়ন পড়ে গেছে। এমন সময়ে এই সফর হতে চলেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ক তীব্র চাপের মুখে পড়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন আমদানি শুল্ক নীতির প্রেক্ষিতে এই সফর কেবল বন্ধুত্ব নয়, বরং এক কৌশলগত বার্তা বহন করছে।
🛢️ কেন এই সফর নিয়ে এত চর্চা?
ভারত এখনো রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণে অপরিশোধিত তেল কিনছে। এই বিষয়টিকেই যুক্তরাষ্ট্র ভালো চোখে দেখছে না। ২০২৫ সালের ৬ আগস্ট, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক নির্বাহী আদেশে ভারতীয় পণ্যের ওপর ২৫% অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেন।
এর ফলে ভারতের জন্য আমেরিকান বাজারে পণ্য রপ্তানি কার্যত মহা চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পুতিনের ভারত সফরের ঘোষণা যেন আমেরিকার জন্য এক রীতিমতো কূটনৈতিক ধাক্কা।
🗣️ দোভালের মুখে ভারতের বার্তা
ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল নিজেই মস্কো থেকে পুতিন সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন,
“রাশিয়ার সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক কেবল পুরনো নয়, গভীরও। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে এই বন্ধুত্ব আমাদের জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।”
এই সফর হতে চলেছে ২০২১ সালের পর পুতিনের প্রথম ভারত সফর। ফলে এটি শুধুমাত্র প্রতীকী নয়, বাস্তব কূটনৈতিক স্তরেও বড় বার্তা।
🧭 কী আলোচনা হতে পারে মোদি-পুতিন বৈঠকে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সফরে যেসব বিষয়ে জোর দেওয়া হতে পারে, তার মধ্যে রয়েছে:
- প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং যৌথ প্রকল্প
- রাশিয়ান তেল আমদানির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
- স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য (রুবল-রুপি ব্যবস্থাপনা)
- ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ভারতের অবস্থান
এছাড়াও সম্ভবত একাধিক প্রযুক্তি ও জ্বালানি প্রকল্পে যৌথ বিনিয়োগের ঘোষণা আসতে পারে।
💼 যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিতে ভারত এখন “দুই নৌকায় পা”?
বিশ্ব রাজনীতিতে এখন দ্বৈত সম্পর্কের কৌশল নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। ভারত যেমন আমেরিকার ঘনিষ্ঠ কৌশলগত মিত্র, তেমনি রাশিয়াও দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত অংশীদার। এই দুই দেশের চাপের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা ভারতের জন্য এখন চ্যালেঞ্জ।
যুক্তরাষ্ট্র বারবার হুঁশিয়ারি দিলেও ভারত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে—জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে তারা সিদ্ধান্ত নিতে স্বাধীন। ট্রাম্প প্রশাসনের চাপের মাঝেও ভারত রাশিয়ার পাশে দাঁড়ানোয় আন্তর্জাতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
📈 অর্থনীতিতেও পড়ছে প্রভাব
পুতিনের সফরের ঘোষণার পর রাশিয়ার শেয়ার বাজারে তাৎক্ষণিক উত্থান দেখা গেছে। মস্কো এক্সচেঞ্জ সূচক (MOEX) প্রায় ৫% পর্যন্ত বেড়ে যায়। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই সফরের মাধ্যমে ভারত-রাশিয়া বাণিজ্যিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে।
🧭 উপসংহার: পুতিনের সফর কি মোদির কূটনৈতিক মাস্টারস্ট্রোক?
এই সফরের মধ্য দিয়ে ভারত একটি জোরালো বার্তা দিচ্ছে—তারা কোনো একক পক্ষের চাপের মুখে নীতিগত অবস্থান বদলাবে না। মোদির “ভারত ফার্স্ট” নীতি আরও একবার আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্পষ্ট হচ্ছে।
এখন গোটা বিশ্বের চোখ মোদি-পুতিন বৈঠকের দিকে। এই বৈঠক শুধু ভারত-রাশিয়া সম্পর্ক নয়, বরং বিশ্ব রাজনীতির ভবিষ্যৎ দিক নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
Hey, I’m Arafat Hossain! With 7 years of experience, I’m all about reviewing the coolest gadgets, from cutting-edge AI tech to the latest mobiles and laptops. My passion for new technology shines through in my detailed, honest reviews on opaui.com, helping you choose the best gear out there